নয়াদিল্লি, ৩০ সেপ্টেম্বর
“আপনার আধার নম্বরে মাদক পাচারের মামলা হয়েছে। ভিডিও কলেই আপনাকে গ্রেপ্তার করা হলো — ফোন কাটবেন না।” ফোনের ওপার থেকে এমন কথা শুনে আতঙ্কে বহু মানুষ লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন। এই ফাঁদের নাম ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। কিন্তু সবচেয়ে জরুরি তথ্যটা হলো: ভারতীয় আইনে ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কিছুর অস্তিত্বই নেই। সিবিআই এবং একাধিক রাজ্যের পুলিশপ্রধান স্পষ্ট ভাষায় এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
কীভাবে ফাঁদ পাতে প্রতারকরা
- প্রথম ফোনে নিজেদের পুলিশ, সিবিআই, ইডি, কাস্টমস বা ট্রাই-এর অফিসার বলে পরিচয় দেয়।
- এরপর ভিডিও কলে নিয়ে যায়। স্ক্রিনে দেখা যায় উর্দি পরা লোক, ভুয়ো এফআইআর, এমনকি ‘বিচারক’।
- শেষ ধাপে টাকার দাবি। ‘মামলা মেটাতে’, ‘জামিনের জন্য’ বা ‘অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে’ ব্যাংক ট্রান্সফার করতে বলা হয়।
লাল সংকেত: কখন বুঝবেন এটা প্রতারণা
- ফোনে কেউ নিজেকে গ্রেপ্তার করার হুমকি দিলে।
- ‘কাউকে জানাবেন না’ বলে গোপনীয়তার শর্ত দিলে।
- ভিডিও কলে ক্যামেরা অন রাখতে বাধ্য করলে।
- মামলা মেটানোর নামে টাকা চাইলে।
- ওটিপি, আধার নম্বর, ব্যাংকের পাসওয়ার্ড বা পিন চাইলে।
মনে রাখুন: কোনো আসল পুলিশ অফিসার, আদালত বা সরকারি সংস্থা ফোন বা ভিডিও কলে টাকা চায় না।
বাঁচার ৭টি নিয়ম
- এমন ফোন পেলেই আতঙ্কিত না হয়ে ফোন কেটে দিন।
- ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড, আধার বা ব্যাংকের তথ্য কাউকে দেবেন না।
- সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের কাউকে বা বিশ্বস্ত কাউকে জানান।
- সত্যিকারের কোনো আইনি বিষয় মনে হলে অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করে যাচাই করুন।
- কোনো অবস্থাতেই টাকা পাঠাবেন না।
- সন্দেহজনক কল সঞ্চার সাথী পোর্টালে (sancharsaathi.gov.in) জানান।
- বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের এই ফাঁদের কথা আগেই বুঝিয়ে রাখুন।
টাকা চলে গেলে কী করবেন
দেরি না করে জাতীয় সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন ১৯৩০-এ ফোন করুন এবং cybercrime.gov.in পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করুন। একই সঙ্গে ব্যাংকের ফ্রড বিভাগে জানান।
প্রতারকদের মনস্তত্ত্ব: তিনটি অস্ত্র
- ভয় — গ্রেপ্তার, বদনাম বা পরিবারের ক্ষতির ভয় দেখানো।
- তাড়াহুড়ো — ‘এখনই সিদ্ধান্ত নিন’, যাতে ভাবার সময় না পান।
- বিচ্ছিন্নতা — পরিবারকে জানাতে নিষেধ করা।
মনে রাখার এক লাইন: পুলিশের উর্দি ভিডিও কলে দেখা গেলেই সে পুলিশ নয়; টাকা চাইলেই সে প্রতারক।
সূত্র: দ্য ট্রিবিউন; ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


Leave a Reply