ভারতে ৫জির তিন বছর: কী বদলালো, কী এখনও বাকি

টেলিকম টাওয়ার — ভারতে ৫জি পরিষেবার সম্প্রসারণ

Written by

in

নয়াদিল্লি, ৩০ সেপ্টেম্বর

২০২২ সালের অক্টোবরে ভারতে ৫জি পরিষেবা চালুর তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই তিন বছরে ছবিটা বদলেছে দ্রুত — টেলিকম সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ জনসংখ্যা এখন ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায়। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ বলছে, ৫জি পরিষেবা পৌঁছেছে ৯৯.৯ শতাংশ জেলায়। কিন্তু কভারেজের এই সাফল্যের পরেও মান, গ্রামীণ প্রসার ও এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারের প্রশ্নে এখনও অনেকটা পথ বাকি।

সংখ্যায় ৫জি ভারত

সংসদে দেওয়া সরকারি জবাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৫.২৩ লক্ষ ৫জি বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) বসানো হয়েছে। সব প্রযুক্তি (২জি থেকে ৫জি) মিলিয়ে মোট বিটিএসের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এক দশকে টেলি-ঘনত্ব ৭৫.২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৬.৭৬ শতাংশে পৌঁছেছে, আর ওয়্যারলেস ডেটার দাম কমায় মাসিক গড় ডেটা ব্যবহারে বড় লাফ দেখা গেছে।

গ্রামে পৌঁছনোর চেষ্টা

শহরের বাইরে নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিতে সরকারি প্রকল্পগুলোর ভূমিকা বড়। ভারতনেট প্রকল্পে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২,১৪,৯২১টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে ‘সার্ভিস-রেডি’ করা হয়েছে। ৪জি স্যাচুরেশন প্রকল্পে একই সময় পর্যন্ত ২৩,৯৯৪টি মোবাইল টাওয়ার চালু হয়েছে।

গতির হাল কেমন

ট্রাই (TRAI) নিয়মিত ড্রাইভ টেস্ট করে নেটওয়ার্কের মান যাচাই করে। দক্ষিণ দিল্লি ও নয়ডা রুটে সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৫জিতে গড় ডাউনলোড গতি জিওর ক্ষেত্রে প্রায় ২৫৭ এমবিপিএস ও এয়ারটেলের ক্ষেত্রে প্রায় ১৭৭ এমবিপিএস — যা ৪জির তুলনায় বহুগুণ বেশি।

কী এখনও বাকি

সরকারি মূল্যায়নেই বলা হয়েছে, কভারেজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পর ৫জির পরের ধাপ হবে নেটওয়ার্কের মান, এন্টারপ্রাইজ ব্যবহার ও গ্রামীণ ডিজিটাল পরিষেবা। ফাইবার ব্যাকহল জোরদার করাকে ২০২৬ সালের অগ্রাধিকার বলা হয়েছে।

সাধারণ গ্রাহকের জন্য এর মানে কী

যাঁদের ৫জি-সাপোর্টেড ফোন আছে এবং যাঁরা কভারেজ এলাকায় থাকেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই অনেক বেশি গতির ডেটা পাচ্ছেন। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের বড় অংশে এখনও ৪জিই ভরসা, আর ইনডোর কভারেজ সব জায়গায় সমান নয়।

৪জি বনাম ৫জি: পার্থক্য কোথায়

বিষয়৪জি৫জি
গড় ডাউনলোড গতি (শহরে)২০-৪০ এমবিপিএসট্রাই-এর পরীক্ষায় ১৭৭-২৫৭ এমবিপিএস
ল্যাটেন্সি৩০-৫০ মিলিসেকেন্ডতত্ত্বগতভাবে ১০ মিলিসেকেন্ডের কম
মূল ব্যবহারমোবাইল ডেটা, ভিডিও স্ট্রিমিংমোবাইল ডেটা ছাড়াও শিল্প, IoT, স্মার্ট সিটি

চ্যালেঞ্জগুলো কী

  • ফাইবার ব্যাকহল: টাওয়ার পর্যন্ত উচ্চগতির ফাইবার না পৌঁছলে ৫জির পূর্ণ গতি মেলে না।
  • ইনডোর কভারেজ: বাড়ি-অফিসের ভেতরে সিগন্যাল দুর্বল থাকার অভিযোগ রয়েছে।
  • ডিভাইস: ৫জির সুবিধা পেতে ৫জি-সাপোর্টেড ফোন দরকার।
  • গ্রামীণ ব্যবহার: টাওয়ার বসলেও গ্রামে ডিজিটাল পরিষেবার প্রকৃত ব্যবহার বাড়ানোই আসল লক্ষ্য।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন

৫জির জন্য কি নতুন সিম লাগে?
সাধারণত না — ৫জি ফোন ও কভারেজ এলাকায় থাকলেই চলে।

ডেটার দাম কি বাড়বে?
এখন পর্যন্ত ভারতে মোবাইল ডেটা বিশ্বের সস্তার মধ্যে। ভবিষ্যৎ শুল্ক অপারেটরদের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

তিন বছরে ৫জি ভারত কভারেজের দৌড়ে বিশ্বের দ্রুততমদের একটিতে পরিণত হয়েছে। এখন লড়াইটা বিস্তারের নয় — মানের, গভীরতার ও ব্যবহারের।

সূত্র: সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জবাব (রাজ্যসভা প্রশ্ন ২২৬৪); উইয়ন (ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬)

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *