কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর
বর্ষা শেষ, কিন্তু মশার মরশুম শেষ হয়নি। বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমা জলে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ে, আর সেই সঙ্গে বাড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ।
ডেঙ্গুর লক্ষণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- হঠাৎ উচ্চ জ্বর
- তীব্র মাথাব্যথা
- চোখের পেছনে ব্যথা
- পেশি ও গাঁটে ব্যথা
- বমি বমি ভাব ও বমি
- গায়ে র্যাশ
জ্বর কমার পরই সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর ৪ থেকে ৬ নম্বর দিন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময় জ্বর কমে গেলেও শরীরে প্লাজমা লিকেজ, রক্তক্ষরণ বা শকের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সতর্ক সংকেত: কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন
- পেটে তীব্র ব্যথা
- বারবার বমি
- নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অস্থিরতা
চিকিৎসায় কী করা হয়
ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই — চিকিৎসা মূলত সহায়ক। WHO-এর পরামর্শ: পর্যাপ্ত তরল পান, বিশ্রাম এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল। অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলুন।
প্রতিরোধ: মশার বংশবিস্তার রুখুন
- বাড়ির আশপাশে জমা জল সরান।
- জল সংরক্ষণের পাত্র ঢেকে রাখুন।
- দিনের বেলাতেও মশারি বা রেপেলেন্ট ব্যবহার করুন।
সম্পর্কিত: ব্যথার ওষুধ আর অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা সিডিএসসিও-র, কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা
ডেঙ্গুর তিনটি পর্যায়
- জ্বরের পর্যায় (১–৩ দিন): হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, গায়ে ব্যথা।
- সংকটময় পর্যায় (৪–৬ দিন): জ্বর কমলেও জটিলতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
- আরোগ্যের পর্যায়: ধীরে ধীরে সুস্থতা ফেরে।
ভুল ধারণা থেকে সাবধান
- ‘জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে’ — ভুল; সংকটময় পর্যায় জ্বর কমার পরেই আসে।
- ‘অ্যান্টিবায়োটিকে ডেঙ্গু সারে’ — ভুল; ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ।
এটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট

