নয়াদিল্লি, ৩০ সেপ্টেম্বর
ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে দেশজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও। সংস্থার দাবি, এই ওষুধগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কিডনির গুরুতর ক্ষতি, এমনকি ক্রনিক কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
সিডিএসসিও-র সতর্কবার্তায় কী বলা হয়েছে
ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল (ভারত) ডা. রাজীব সিং রঘুবংশীর স্বাক্ষরিত সার্কুলারে (২১ সেপ্টেম্বর) সাধারণ মানুষ, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিক্রেতা, পাইকারি ব্যবসায়ী, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান — সবার প্রতি এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (এনএসএআইডি) — অর্থাৎ সাধারণ ব্যথার ওষুধ — এবং অ্যান্টিবায়োটিক কেবল চিকিৎসাগত প্রয়োজনে, সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ের জন্য, রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনারের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য নির্দেশ
- যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা বা কিডনি-সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়েছে, তাঁরা এনএসএআইডি নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- ব্যথা বা জ্বর বারবার ফিরে এলে বারবার ব্যথার ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
- সাধারণ সর্দি-কাশির মতো ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না — অপ্রয়োজনে খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বাড়ে।
- চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স পুরো শেষ করুন; নিজের ওষুধ অন্যকে দেবেন না।
শিডিউল-এইচ ও এইচ১: আইন কী বলে
ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০ এবং ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫ অনুযায়ী বেশিরভাগ এনএসএআইডি শিডিউল-এইচ-এর অন্তর্গত — অর্থাৎ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া খুচরো বিক্রি করা যাবে না। বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিক শিডিউল-এইচ১-এর আওতায়, যেগুলোর গায়ে সতর্কবার্তা থাকে যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া বিপজ্জনক।
চিকিৎসকদের প্রতি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপের নীতি মেনে দায়িত্বশীলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন (ব্যাখ্যা): ব্যাখ্যা: বারবার ব্যথার ওষুধ খেলে কেন কিডনির ক্ষতি হয়
সূত্র: সিডিএসসিও সার্কুলার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) (ফার্মাটিউটর); মেডিক্যাল ডায়ালগস; এএনআই


Leave a Reply