Author: Bongo Chakshu

  • ডায়াবেটিসের শুরুর লক্ষণ: কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    ডায়াবেটিসের শুরুর লক্ষণ: কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর

    ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা অনেক সময় নীরবে বাড়তে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে লক্ষণগুলো হালকা হতে পারে এবং বহু বছর ধরে নজরে নাও আসতে পারে। অথচ সময়মতো ধরা পড়লে বড় জটিলতা এড়ানো যায়।

    ডায়াবেটিস কী

    শরীর যখন রক্তে গ্লুকোজ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন ডায়াবেটিস হয়। ইনসুলিন নামে হরমোন রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে পৌঁছে দেয়; তা কার্যকর না হলে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়।

    শুরুর ৫টি লক্ষণ

    1. অস্বাভাবিক তৃষ্ণা — বারবার জল খেয়েও তৃষ্ণা না মেটা।
    2. বারবার প্রস্রাব — বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।
    3. অস্বাভাবিক ক্লান্তি — পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দুর্বল লাগা।
    4. ঝাপসা দৃষ্টি।
    5. কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।

    টাইপ-১, টাইপ-২ ও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

    • টাইপ-১: শরীর ইনসুলিন তৈরি বন্ধ করে দেয়।
    • টাইপ-২: শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না; ডায়াবেটিস আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশেরও বেশি এই ধরনের।
    • গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।

    কারা বেশি ঝুঁকিতে

    স্থূলতা, বসে থাকা জীবনযাত্রা, চিনি ও চর্বি বেশি এমন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস।

    কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    • উপরের লক্ষণগুলোর একাধিকটি কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে।
    • বারবার প্রস্রাব বা অতিরিক্ত তৃষ্ণা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটালে।
    • ঝুঁকির কারণ থাকলে বছরে অন্তত একবার রক্তে শর্করার পরীক্ষা করান।

    রক্তে শর্করার মাত্রা: সাধারণ ধারণা

    মাত্রা (mg/dL)অর্থ
    ১০০-এর নিচেস্বাভাবিক
    ১০০–১২৫প্রি-ডায়াবেটিস
    ১২৬ বা তার বেশিডায়াবেটিসের ইঙ্গিত

    ভুল ধারণা থেকে সাবধান

    • ‘মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয়’ — সরলীকরণ।
    • ‘রোগা মানুষের ডায়াবেটিস হয় না’ — ভুল।
    • ‘একবার ওষুধ শুরু করলে সারাজীবন’ — নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না।

    সম্পর্কিত: ব্যথার ওষুধ আর অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা সিডিএসসিও-র, কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা

    ঝুঁকি কমাতে কী করবেন

    সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা।

    এটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

    সূত্র: WHO ডায়াবেটিস ফ্যাক্ট শিট

  • মতামত: প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ না হলে সতর্কবার্তাই সার

    মতামত: প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ না হলে সতর্কবার্তাই সার

    কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর

    এটি মতামত নিবন্ধ। এখানে প্রকাশিত মত লেখকের নিজস্ব।

    কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও সম্প্রতি ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। কিন্তু একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন থেকেই যায়: এই সতর্কবার্তা কাদের জন্য?

    নিয়ম তো কাগজে আছেই

    ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫ অনুযায়ী বেশিরভাগ ব্যথার ওষুধ (এনএসএআইডি) শিডিউল-এইচ-এর অন্তর্গত — অর্থাৎ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া খুচরো বিক্রি করার কথা নয়। সমস্যা হলো, কাগজের নিয়ম আর দোকানের বাস্তবতার মধ্যে ফারাকটা বিশাল।

    সতর্কবার্তা একা যথেষ্ট নয়

    দরকার তিন স্তরে পদক্ষেপ:

    • খুচরো বিক্রিতে কড়া নজরদারি।
    • চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল প্রেসক্রিপশন।
    • ফার্মাসিস্টদের প্রশিক্ষণ।

    ভোক্তারও দায় আছে

    জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক চাওয়া, ব্যথা হলেই দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া — এই অভ্যাস বদলাতে হবে আমাদেরও। ব্যাখ্যা: কেন বারবার ব্যথার ওষুধ খাওয়া কিডনির জন্য বিপজ্জনক পড়লে বোঝা যায়, এই সহজ অভ্যাসের মূল্য কতটা চড়া হতে পারে।

    পাঁচ দফা দাবি

    1. নিয়মিত পরিদর্শন: শিডিউল-এইচ ও এইচ১ ওষুধের খুচরো বিক্রিতে নজরদারি বাড়ানো।
    2. প্রেসক্রিপশন অডিট: চিকিৎসকদের অ্যান্টিবায়োটিক লেখার ধরন পর্যালোচনা করা।
    3. ফার্মাসিস্ট প্রশিক্ষণ।
    4. জনসচেতনতা।
    5. অভিযোগের সহজ পথ।

    শেষ কথা

    ওষুধ জীবন বাঁচায় — ভুল ব্যবহারে সেই ওষুধই ক্ষতি ডেকে আনে। সিডিএসসিও সতর্ক করেছে; এবার পালা সেই সতর্কবার্তাকে মাঠে-বাস্তবে রূপ দেওয়ার। নিয়ম আছে — এবার তার প্রয়োগ চাই।

    আরও পড়ুন: ব্যথার ওষুধ আর অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা সিডিএসসিও-র, কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা

    সূত্র: সিডিএসসিও সার্কুলার (ফার্মাটিউটর)

  • বাগদাদ থেকে সেনা প্রত্যাহার: পশ্চিম এশিয়ায় শক্তির নতুন সমীকরণ

    বাগদাদ থেকে সেনা প্রত্যাহার: পশ্চিম এশিয়ায় শক্তির নতুন সমীকরণ

    বুধবার, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন সেনাবাহিনী বাগদাদের শেষ ঘাঁটি ক্যাম্প ভিক্টরি থেকে পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন করল। এই প্রত্যাহার ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সম্মত হয়েছিল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করল। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ঘাঁটি ছাড়া নয়, পশ্চিম এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যের পুনর্নির্ধারণ।

    মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বিশ্লেষণ: ২০০৩ থেকে ২০২৬-এর ইতিহাস

    ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ২০১১ সালের শেষে মার্কিন সেনারা ইরাক ছেড়ে যায়। কিন্তু ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী ফিরে আসে। রয়টার্স

    এই দুই দশকের যুদ্ধে ৪,৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এ বছর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিহত ১৮ জন মার্কিন সার্ভিস সদস্যের মধ্যে সাতজনই ছিলেন ইরাকে।

    বছরঘটনা
    ২০০৩সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আক্রমণ
    ২০১১প্রথম দফায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
    ২০১৪–২০১৭আইএস-বিরোধী যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাবর্তন
    ২০২৪চূড়ান্ত প্রত্যাহার চুক্তি, বাইডেন প্রশাসনের আমলে
    ২০২৬৩০ সেপ্টেম্বর: বাগদাদের শেষ ঘাঁটি থেকে পূর্ণ প্রত্যাহার

    আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে ইরানের সুবিধা

    প্রত্যাহারকে বিজয় হিসেবে উদযাপন করেছে তেহরান ও তার মিত্ররা। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস সেনা প্রত্যাহারের প্রাক্কালে মার্কিন ভোটারদের প্রতি ২৬ পৃষ্ঠার এক খোলা চিঠিতে কংগ্রেস থেকে ট্রাম্পের মিত্রদের ভোটে বিতাড়িত করার আহ্বান জানায়। রয়টার্স

    ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে — ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন, যা ইতিমধ্যে সাত মাস পেরিয়েছে। সাদ্দামের পতনের পর থেকেই ইরান ইরাকে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।

    নিরাপত্তা শূন্যতার আশঙ্কা: ইরাকি বাহিনী কতটা প্রস্তুত

    ২০১১ সালের প্রত্যাহারের পর ঠিক এমনই একটি শূন্যতার মধ্যে ইসলামিক স্টেট মাথা তুলেছিল। এখনো ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমি ও পাহাড়ি এলাকায় আইএসের পুনরুত্থানের খবর আসে। দুই দশক পর বাগদাদ ছাড়ল মার্কিন সেনা, শেষ হলো ইরাকে দীর্ঘ উপস্থিতি

    কাতারের মধ্যস্থতা ও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম-এশিয়া নীতি

    জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারকে সহায়ক ভূমিকা রেখে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি এনেছিল দোহা। এবারও মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সোমবার কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা পক্ষগুলোর মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছি।” রয়টার্স

    গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব ভাসিয়েছিল — যাতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সাত দিনের কাউন্টডাউন ও যুদ্ধবিরতি থাকার কথা ছিল। ট্রাম্প শনিবার তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    শেষ বিচারে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রত্যাহার পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নীতির একটি বড় মোড়। ইরাক এখন পরীক্ষার মুখে — তারা কি নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পারবে?

  • পরমাণু বিদ্যুতে বেসরকারি পুঁজি: ভারতের জ্বালানি ভবিষ্যৎ কোন পথে

    পরমাণু বিদ্যুতে বেসরকারি পুঁজি: ভারতের জ্বালানি ভবিষ্যৎ কোন পথে

    ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ খাতে এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। ষাট বছরের রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া শেষ করে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম আলোচনায় বসেছে আদানি গ্রুপ, রিলায়েন্স, জিন্দাল ও এনটিপিসির সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে — পরমাণু বিদ্যুৎ ভারত ভবিষ্যৎ কোন পথে নেবে?

    পরমাণু বিদ্যুৎ ভারত ভবিষ্যৎ: ২০৪৭-এর ১০০ গিগাওয়াট লক্ষ্য

    ভারতের বর্তমান পরমাণু বিদ্যুৎ সক্ষমতা মাত্র ৮.৭৮ গিগাওয়াট — চালু আছে ২৪টি রিঅ্যাক্টর। এই ক্ষমতাকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াটে নেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে, “নিউক্লিয়ার এনার্জি মিশন”-এর অধীনে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো

    এই লক্ষ্যের পেছনে দুটি বড় চালক রয়েছে। প্রথমত, “বিকশিত ভারত ২০৪৭” লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত, ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো নির্গমন অর্জনের প্রতিশ্রুতি।

    কেন এখন বেসরকারি পুঁজি ডাকা হলো

    ১৯৬২ সালের পারমাণবিক শক্তি আইন থেকে ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ ছিল রাষ্ট্রের একচেটিয়া সম্পদ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংসদে পাস হওয়া “শান্তি” আইন সেই একচেটিয়া ভেঙেছে। এই আইনে বেসরকারি কোম্পানি প্রথমবার পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনা করতে পারবে। রয়টার্স

    রোসাটম-সংলাপ ও প্রযুক্তির প্রশ্ন

    রোসাটমের করপোরেট উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রথম উপ-মহাপরিচালক কিরিল কোমারভ দ্য হিন্দু বিজনেসলাইনকে বলেছেন, “আদানি গ্রুপ, রিলায়েন্স, জিন্দালের মতো আপনাদের বিখ্যাত সব নামের বেসরকারি কোম্পানি এবং রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এনটিপিসি — সবার সঙ্গেই আমাদের আলোচনা চলছে।” দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন ভারতের পরমাণু-বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে রাশিয়ার রোসাটমের নজর, আদানি-রিলায়েন্স-এনটিপিসির সঙ্গে আলোচনা

    রিঅ্যাক্টর ধরন২০৪৭ সালের মধ্যে লক্ষ্য (গিগাওয়াট)
    চাপযুক্ত ভারী পানি রিঅ্যাক্টর (দেশীয়)৪৬.৫
    চাপযুক্ত পানি রিঅ্যাক্টর (আমদানি/আন্তর্জাতিক)৩৮.৮
    দ্রুত প্রজনন রিঅ্যাক্টর৫
    ভারত স্মল/মডিউলার রিঅ্যাক্টর১০

    অর্থায়ন, দায়বদ্ধতা ও খোলা প্রশ্ন

    প্রথম প্রশ্ন অর্থায়নের। ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট সক্ষমতার জন্য প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। দ্বিতীয় প্রশ্ন পারমাণবিক দায়বদ্ধতা আইনের। তৃতীয়ত, জ্বালানি নিরাপত্তা — বছরে প্রায় ৮,০০০ টন প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম লাগবে বলে অনুমান। চতুর্থত, জনসমর্থন ও নিরাপত্তা।

    শেষ বিচারে, পরমাণু বিদ্যুৎ ভারত ভবিষ্যৎ এখন একটি বড় বাজির মুখে। রোসাটমের সঙ্গে আদানি-রিলায়েন্স-জিন্দাল-এনটিপিসির আলোচনা এই যাত্রার শুরু মাত্র; গন্তব্য এখনো অনেক দূর।

  • তথ্য: ভারতে কিডনি রোগের চিত্র — সংখ্যায় যা বলছে

    তথ্য: ভারতে কিডনি রোগের চিত্র — সংখ্যায় যা বলছে

    কিডনি রোগ আজ ভারতের অন্যতম বড় নীরব স্বাস্থ্য-সংকট। গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ ২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ক্রনিক কিডনি ডিজিজে (সিকেডি) আক্রান্ত — সংখ্যার বিচারে বিশ্বে দ্বিতীয়, চীনের পরেই।

    কিডনি রোগ পরিসংখ্যান ভারত: মূল সংখ্যা

    ভারতে সিকেডির প্রচলন নিয়ে সবচেয়ে সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য হিসাবটি এসেছে ২০২৫ সালে নেফ্রোলজি জার্নালে প্রকাশিত এক সিস্টেম্যাটিক রিভিউ ও মেটা-বিশ্লেষণ থেকে। ফলাফল বলছে, ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয়দের মধ্যে সিকেডির সম্মিলিত প্রচলন ১৩.২৪ শতাংশ মেটা-বিশ্লেষণ, পাবমেড।

    ২০১১–২০১৭ সময়কালে প্রচলন ছিল ১১.১২ শতাংশ, যা ২০১৮–২০২৩ সময়কালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬.৩৮ শতাংশে। গ্রামাঞ্চলে প্রচলন (১৫.৩৪ শতাংশ) শহরাঞ্চলের (১০.৬৫ শতাংশ) চেয়ে বেশি।

    বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ভারত

    গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ ২০২৩ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে ৭৮ কোটি ৮০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক সিকেডিতে আক্রান্ত ছিলেন। এর মধ্যে চীনে ১৫ কোটি ২০ লাখ এবং ভারতে ১৩ কোটি ৮০ লাখ। ল্যানসেট গবেষণার প্রতিবেদন

    সূচকসংখ্যাউৎস ও বছর
    বিশ্বে সিকেডি রোগী (২০+ বয়সী)৭৮.৮ কোটিগ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ ২০২৩, দ্য ল্যানসেট
    ভারতে সিকেডি রোগী (প্রাপ্তবয়স্ক)১৩.৮ কোটি (বিশ্বে দ্বিতীয়)গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ ২০২৩
    ভারতে সিকেডি প্রচলন (১৫+ বয়সী)১৩.২৪%মেটা-বিশ্লেষণ, নেফ্রোলজি, ২০২৫
    সিকেডিতে বিশ্বে বার্ষিক মৃত্যু১৪.৮ লাখ (মৃত্যুর ৯ম কারণ)গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ ২০২৩
    ভারতে ডায়াবেটিস রোগী১০.১ কোটিআইসিএমআর-ইন্ডিয়াব, ২০২৩
    প্রতিবছর নতুন কিডনি বিকল (ইএসআরডি) রোগী~২.২ লাখপ্রধানমন্ত্রী জাতীয় ডায়ালিসিস কর্মসূচি
    দেশে হিমোডায়ালিসিস মেশিন১১,১৪৮টিপ্রধানমন্ত্রী জাতীয় ডায়ালিসিস কর্মসূচি

    চালিকাশক্তি: ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ

    আইসিএমআর-ইন্ডিয়াব গবেষণা (২০২৩) অনুযায়ী, ভারতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১০ কোটি ১০ লাখ, প্রি-ডায়াবেটিসে ১৩ কোটি ৬০ লাখ এবং উচ্চ রক্তচাপে ৩১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ আইসিএমআর-ইন্ডিয়াব গবেষণা।

    এখানে একটি সতর্কতাও প্রাসঙ্গিক। সিডিএসসিও-র কঠোর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নির্বিচারে ব্যথার ওষুধ সেবন কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। কেন বারবার ব্যথার ওষুধ কিডনির জন্য বিপজ্জনক প্রতিবেদনে এই ঝুঁকির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

    ডায়ালিসিস ও চিকিৎসার চাপ

    প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ডায়ালিসিস কর্মসূচির হিসাব অনুযায়ী, ভারতে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার নতুন ইএসআরডি রোগী যুক্ত হন। অথচ সারা দেশে হিমোডায়ালিসিস মেশিন রয়েছে মাত্র ১১ হাজার ১৪৮টি দ্য হিন্দু।

    রাজ্যভেদে গভীর অসমতা

    ইন্ডিয়ান জার্নাল অব মেডিক্যাল রিসার্চে ২০২৬ সালে প্রকাশিত এক রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিডনি রোগের মৃত্যুহার রাজস্থানে প্রতি লাখে ৬.৭১ থেকে তেলেঙ্গানায় ১৯.৮৪ — প্রায় তিন গুণ পার্থক্য আইজেএমআর গবেষণা।

    সংখ্যাগুলো যা বলছে, তা স্পষ্ট: কিডনি রোগ আর দূরের সমস্যা নয়। ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রক্ত-মূত্র পরীক্ষা এবং ডায়ালিসিস সুবিধার প্রসার — এই তিনটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগই সংকট মোকাবিলার চাবিকাঠি।

  • তথ্য: যুবভারতীসহ ভারতের ৫ বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম

    তথ্য: যুবভারতীসহ ভারতের ৫ বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম

    ভারতের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম কোনটি? উত্তর একটাই — কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, যা সল্ট লেক স্টেডিয়াম নামেই বেশি পরিচিত। ৮৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল ভেন্যু। আগামী ৩ অক্টোবর এই মাঠেই ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ হতে চলেছে — ৩ অক্টোবরের ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট ঘোষণা।

    ভারতের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম: সেরা ৫

    ক্রমস্টেডিয়ামশহরধারণক্ষমতাউল্লেখযোগ্য তথ্য
    ১বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (সল্ট লেক)কলকাতা৮৫,০০০১৯৮৪-এ উদ্বোধন; ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ২০১৭-এর ফাইনাল
    ২জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামনয়াদিল্লি৬০,২৫৪১৯৮২ এশিয়ান গেমস ও ২০১০ কমনওয়েলথ গেমসের মূল ভেন্যু
    ৩ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামনবি মুম্বই৫৫,০০০২০০৮-এ উদ্বোধন; প্রথম আইএসএল ফাইনাল (২০১৪)
    ৪জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম (কালুর)কোচি৪১,০০০কেরালা ব্লাস্টার্সের ঘরের মাঠ
    ৫জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম (মেরিনা এরিনা)চেন্নাই৪০,০০০চেন্নাইয়িন এফসির ঘরের মাঠ (২০১৪ থেকে)

    ১. বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, কলকাতা — ৮৫,০০০

    ভারতীয় ফুটবলের মক্কা। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধনের পর একসময় ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি দর্শক ধারণ করত এটি। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ২০১৭-এর ফাইনাল-সহ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো এখানেই হয়েছে জি নিউজ। ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ম্যাচে ১,৩১,১৭৮ দর্শকের রেকর্ড উপস্থিতি আজও ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্পোর্টসকিডা।

    ২. জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, নয়াদিল্লি — ৬০,২৫৪

    ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসের জন্য তৈরি; ২০১০ কমনওয়েলথ গেমসের জন্য সংস্কারের পর ধারণক্ষমতা ৬০,২৫৪ উইকিপিডিয়া।

    ৩. ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়াম, নবি মুম্বই — ৫৫,০০০

    ২০০৮ সালের ৪ মার্চ উদ্বোধন; প্রথম আইএসএলের ফাইনাল এখানেই হয় দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

    ৪. জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, কোচি — ৪১,০০০

    কালুরের এই স্টেডিয়াম কেরালা ব্লাস্টার্সের ঘরের মাঠ; ক্লাবের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ধারণক্ষমতা ৪১,০০০ কেরালা ব্লাস্টার্স।

    ৫. জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম (মেরিনা এরিনা), চেন্নাই — ৪০,০০০

    ১৯৯৩ সালে তৈরি; ২০১৪ সাল থেকে চেন্নাইয়িন এফসির ঘরের মাঠ উইকিপিডিয়া।

    সংখ্যা যাচাই নিয়ে একটি নোট

    বিভিন্ন উৎসে ধারণক্ষমতার সংখ্যায় হেরফের দেখা যায়, কারণ সংস্কারের ফলে স্টেডিয়ামগুলোর ধারণক্ষমতা সময়ের সঙ্গে বদলেছে। এই তালিকায় সবচেয়ে হালনাগাদ সংখ্যাটিই নেওয়া হয়েছে। ইডেন গার্ডেন্স বা নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের মতো বিশাল স্টেডিয়ামগুলো এই তালিকায় নেই, কারণ সেগুলো মূলত ক্রিকেটের ভেন্যু।

    আর শীর্ষে, নিঃসন্দেহে, কলকাতার যুবভারতী — যেখানে ৩ অক্টোবর ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের মধ্য দিয়ে আরও একটি ঐতিহাসিক রাতের অপেক্ষা।

  • ছবিতে: পুজোর কলকাতা — কুমোরটুলি থেকে প্যান্ডেল

    ছবিতে: পুজোর কলকাতা — কুমোরটুলি থেকে প্যান্ডেল

    কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর

    মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ বেজে ওঠার অনেক আগেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় উত্তর কলকাতার কুমোরটুলিতে। এই কুমোরটুলি দুর্গাপুজো ছবি সিরিজে রইল মাটি থেকে মণ্ডপ পর্যন্ত পুজোর কলকাতার পাঁচটি মুহূর্ত — সব ছবিই উইকিমিডিয়া কমন্সের মুক্ত লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত।

    কুমোরটুলি দুর্গাপুজো ছবি: মাটি থেকে মণ্ডপ

    কুমোরটুলিতে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার মূর্তি
    কুমোরটুলিতে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার মূর্তি। পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই এই শিল্পপাড়ার কারিগররা মাটির কাঠামোয় খড় বেঁধে, মাটি লেপে গড়ে তোলেন প্রতিমা। — ছবি: Debnathsonu1996 / Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0)
    মণ্ডপে সেজে ওঠা উৎসবের মা
    মণ্ডপে সেজে ওঠা “উৎসবের মা”। ষষ্ঠীর বোধনের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে কলকাতার মণ্ডপগুলো। — ছবি: Goutam1962 / Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0)
    ত্রিধারা সম্মিলনীর প্যান্ডেল, মানোহর পুকুর রোড
    ত্রিধারা সম্মিলনীর প্যান্ডেল, মানোহর পুকুর রোড। থিম প্যান্ডেলের এই শিল্পই শহরকে বছরে একবার খোলা আকাশের নিচের গ্যালারিতে বদলে দেয়। — ছবি: Biswarup Ganguly / Wikimedia Commons (CC BY 3.0)
    চেতলা অগ্রণী ক্লাবের প্যান্ডেলের কারুকাজের বিস্তারিত দৃশ্য
    চেতলা অগ্রণী ক্লাবের প্যান্ডেলের কারুকাজের বিস্তারিত দৃশ্য। থিম পুজোর প্রতিটি কোণে লুকিয়ে থাকে শিল্পীদের মাসের পর মাসের পরিশ্রম। — ছবি: Biswarup Ganguly / Wikimedia Commons (CC BY 3.0)
    বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও বিসর্জনের প্রস্তুতি, বনগাঁ
    বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও বিসর্জনের প্রস্তুতি, বনগাঁ, পশ্চিমবঙ্গ। দেবীবরণের পর মহিলারা একে অপরের মুখে সিঁদুর মাখিয়ে বিদায় জানান দেবীকে — “আসছে বছর আবার হবে”। — ছবি: Sourabh.biswas003 / Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0)

    পাঁচ দিনের এই উৎসব শেষ হয় বিসর্জনে, কিন্তু তার রেশ থেকে যায় সারা বছর। ছবিগুলোর উচ্চ রেজোলিউশন সংস্করণ ও লাইসেন্সের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যাবে উইকিমিডিয়া কমন্সে: কুমোরটুলির প্রতিমা, উৎসবের মা, ত্রিধারা সম্মিলনীর প্যান্ডেল, চেতলা অগ্রণীর প্যান্ডেল, সিঁদুর খেলা।

  • দুর্গাপুজো ২০২৬: কলকাতায় প্যান্ডেল হপিংয়ের সম্পূর্ণ গাইড

    দুর্গাপুজো ২০২৬: কলকাতায় প্যান্ডেল হপিংয়ের সম্পূর্ণ গাইড

    দুর্গাপুজো ২০২৬ কলকাতায় আসছে অক্টোবরের মাঝামাঝি। মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর, শনিবার, আর মূল পুজোর পাঁচ দিন — ষষ্ঠী থেকে দশমী — চলবে ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। এই ক’দিন কলকাতা কার্যত একটি উন্মুক্ত শিল্পগ্যালারিতে পরিণত হয়: পাড়ায় পাড়ায় থিমের প্যান্ডেল, আলোর সাজ, ঢাকের বাদ্য আর লাখো মানুষের ভিড়। ২০২১ সালে ইউনেস্কো “কলকাতার দুর্গাপুজো”কে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকে এই উৎসবের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বেড়েছে। এই গাইডে রইল যাচাই করা তারিখের তালিকা, এলাকাভিত্তিক বিখ্যাত পুজো, প্যান্ডেল হপিংয়ের ব্যবহারিক পরামর্শ এবং ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তার নির্দেশিকা।

    দুর্গাপুজো ২০২৬ কলকাতা: মহালয়া থেকে দশমীর তারিখের তালিকা

    ২০২৬ সালের পঞ্জিকা অনুযায়ী দুর্গাপুজোর প্রধান তিথিগুলি নিচে দেওয়া হল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তারিখ যাচাই করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

    তিথিতারিখবারবিশেষত্ব
    মহালয়া১০ অক্টোবর ২০২৬শনিবারপিতৃপক্ষের সমাপ্তি, দেবীপক্ষের সূচনা; ভোরে মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার
    মহাপঞ্চমী১৫ অক্টোবর ২০২৬বৃহস্পতিবারঅনেক প্যান্ডেলের উদ্বোধন ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া
    মহাষষ্ঠী১৬ অক্টোবর ২০২৬শুক্রবারবোধন — দেবীর আবাহন; মূল উৎসবের সূচনা
    মহাসপ্তমী১৭ অক্টোবর ২০২৬শনিবারনবপত্রিকা স্নান, কলা বউ স্নান
    মহাষ্টমী১৮ অক্টোবর ২০২৬রবিবারপুষ্পাঞ্জলি, কুমারী পুজো, সন্ধিপুজো (অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে)
    মহানবমী১৯ অক্টোবর ২০২৬সোমবারহোম-যজ্ঞ; শেষ পূর্ণাঙ্গ প্যান্ডেল-রাত্রি
    বিজয়া দশমী২০ অক্টোবর ২০২৬মঙ্গলবারসিঁদুরখেলা, বিসর্জন, বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়

    মহালয়ার দিনটি নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই: এবছর সর্বপিতৃ অমাবস্যা পড়েছে ১০ অক্টোবর, শনিবার — অমাবস্যা তিথি শুরু ৯ অক্টোবর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে, শেষ ১০ অক্টোবর রাত ৯টা ১৯ মিনিটে, ফলে দিনের বেলার পুরো সময়টাতেই তিথি থাকছে বলে এবিপি লাইভ জানিয়েছে। ভোর ৪টেয় আকাশবাণীতে প্রচারিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠান — ১৯৩১ সাল থেকে চলে আসা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ, যা এখন আকাশবাণীর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলেও শোনা যায়।

    একটি বিষয় মনে রাখা দরকার: তিথি ও স্থানীয় পঞ্জিকার হিসেবে দশমীর বিসর্জন কিছু জায়গায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত গড়াতে পারে। তাই নিজের পাড়া বা গন্তব্য পুজোর বিসর্জনের সময়সূচি স্থানীয় ঘোষণা থেকে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।

    উত্তর কলকাতা: ঐতিহ্য ও বনেদি পুজোর ঠিকানা

    উত্তর কলকাতা দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যবাহী মুখ। এখানকার পুজোগুলিতে থিমের চমকের চেয়ে ঐতিহ্য, প্রতিমার কারুকার্য ও পারিবারিক আবহই প্রধান আকর্ষণ।

    • বাগবাজার সার্বজনীন: শতাব্দীপ্রাচীন এই পুজো তার ধ্রুপদী একচালা দুর্গাপ্রতিমা ও ঐতিহ্যবাহী আবহের জন্য বিখ্যাত। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি মাঠের মেলা ও দোকানপাট এখানকার বাড়তি আকর্ষণ।
    • শোভাবাজার রাজবাড়ি: ১৭৫৭ সাল থেকে চলে আসা বনেদি বাড়ির পুজো — রাজা নবকৃষ্ণ দেবের প্রতিষ্ঠিত এই পুজোই কলকাতার প্রাচীনতম ধারাবাহিক পারিবারিক পুজোগুলির একটি। এই পুজোর দীর্ঘ ইতিহাস জানতে পড়ুন: বনেদি বাড়ির পুজোর ৪০০ বছরের ইতিহাস।
    • কুমারটুলি পার্ক ও আহিরীটোলা সার্বজনীন: কুমারটুলি — প্রতিমা তৈরির বিখ্যাত পাড়া — সংলগ্ন এই পুজোগুলিতে শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতার ছাপ স্পষ্ট। এবিপি লাইভের প্রতিবেদন

    মধ্য কলকাতা: আলো ও স্থাপত্যের জাঁকজমক

    • কলেজ স্কোয়ার: জলাশয়ের মাঝখানে প্যান্ডেল ও চারপাশে আলোর প্রতিফলন — রাতের বেলায় এই দৃশ্য কলকাতার পুজোর সবচেয়ে চেনা ছবিগুলির একটি।
    • সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার (লেবুতলা): বিশাল স্থাপত্যশৈলীর প্রতিরূপ ও জমকালো আলোকসজ্জার জন্য পরিচিত।
    • মহম্মদ আলি পার্ক: মধ্য কলকাতার আরেকটি জনপ্রিয় বড় পুজো, থিম-প্যান্ডেলের জন্য পরিচিত।

    দক্ষিণ কলকাতা: থিম-পুজোর রাজধানী

    • একডালিয়া এভারগ্রিন: বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যের অনুকরণে প্যান্ডেল ও ঐতিহ্যবাহী আলোকসজ্জার জন্য সুপরিচিত।
    • সিংহি পার্ক সার্বজনীন: দক্ষিণের অন্যতম ‘মাস্ট-ভিজিট’ পুজো।
    • বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন: শিল্প, সমাজ ও ঐতিহ্যভিত্তিক থিমের জন্য পরিচিত।
    • ম্যাডক্স স্কোয়ার: খোলা মাঠে কার্নিভালের আমেজ — তরুণদের আড্ডার প্রিয় ঠিকানা।
    • সুরুচি সংঘ: ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে থিমে তুলে ধরার জন্য পরিচিত।

    কোন দিন কোথায়: দিনভিত্তিক রূপরেখা

    • পঞ্চমী–ষষ্ঠী (১৫–১৬ অক্টোবর): অনেক প্যান্ডেলের উদ্বোধন হয়; বড় পুজোগুলির সামনে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে।
    • সপ্তমী (১৭ অক্টোবর): দিনের বেলায় উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজো ঘোরার ভালো সময়।
    • অষ্টমী (১৮ অক্টোবর): সকালে পুষ্পাঞ্জলি ও কুমারী পুজো; সন্ধ্যায় সন্ধিপুজোর জন্য ভিড় বাড়ে।
    • নবমী (১৯ অক্টোবর): শেষ পূর্ণাঙ্গ প্যান্ডেল-রাত্রি — ভিড়ও সর্বাধিক।
    • দশমী (২০ অক্টোবর): সিঁদুরখেলা ও বিসর্জনের শোভাযাত্রা।

    প্যান্ডেল হপিংয়ের ব্যবহারিক টিপস

    • শহরকে জোনে ভাগ করুন: একদিন উত্তর, একদিন মধ্য ও দক্ষিণ — এভাবে ঘোরার পরামর্শ দেন অভিজ্ঞ প্যান্ডেল-হপাররা।
    • সময় বাছুন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে: সপ্তমী থেকে নবমীর সন্ধ্যায় বড় পুজোগুলির সামনে লম্বা লাইন পড়ে; ভিড় এড়াতে দিনের বেলা বা ভোরে প্যান্ডেল দেখুন।
    • মেট্রোকে বন্ধু করুন: শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, চাঁদনি চক, কালীঘাট, রবীন্দ্র সরোবর — মেট্রো স্টেশনগুলির কাছেই বহু বিখ্যাত পুজো।
    • খাওয়া-দাওয়া: প্যান্ডেলের ভোগ, কাঠি রোল, ফুচকা আর মিষ্টি দই — তালিকা আগে থেকে ঠিক করে রাখলে সময় বাঁচে।
    • জল ও বিশ্রাম: লম্বা হাঁটার রুটে সঙ্গে জলের বোতল রাখুন।

    ভিড় ও নিরাপত্তা: যা মনে রাখবেন

    • দলবেঁধে চলুন; ভিড়ের মধ্যে শিশুদের হাত ধরে রাখুন।
    • মূল্যবান জিনিসপত্র সামলে রাখুন।
    • পুলিশের ব্যারিকেড ও স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশ মেনে চলুন।
    • জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বর মোবাইলে সেভ করে রাখুন।

    দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় — কলকাতার কাছে এটি শিল্প, সমাজ ও অর্থনীতির মহোৎসব। শুভ শারদীয়া!

  • বনেদি বাড়ির পুজো থেকে সার্বজনীন: দুর্গাপুজোর ৪০০ বছরের সফর

    বনেদি বাড়ির পুজো থেকে সার্বজনীন: দুর্গাপুজোর ৪০০ বছরের সফর

    দুর্গাপুজোর ইতিহাস আসলে বাংলার সামাজিক ইতিহাসেরই আয়না। যে উৎসব একদিন ছিল জমিদারবাড়ির ঠাকুরদালানে সীমাবদ্ধ অভিজাত আয়োজন, আজ তা কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় কোটি মানুষের সর্বজনীন উৎসব — ২০২১ সালে ইউনেস্কোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বের অন্যতম বড় উন্মুক্ত শিল্পোৎসব।

    দুর্গাপুজোর ইতিহাস: শুরুটা কোথায়?

    শারদীয় দুর্গাপুজো বাংলায় ঠিক কবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। লোককথা অনুযায়ী দিনাজপুর ও মালদার জমিদাররা বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন। ডিএনএ-র প্রতিবেদন

    ১৭৫৭: শোভাবাজার রাজবাড়ি ও ‘কোম্পানির পুজো’

    পলাশীর যুদ্ধের (২৩ জুন, ১৭৫৭) কয়েক মাস পর রাজা নবকৃষ্ণ দেব শোভাবাজার রাজবাড়িতে ধুমধাম করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন। কথিত আছে, রবার্ট ক্লাইভকে নবকৃষ্ণ দেব নিজের বাড়িতে দেবী দুর্গার পুজোয় আমন্ত্রণ জানান। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতির কারণে স্থানীয়রা এই পুজোকে ‘কোম্পানির পুজো’ বলতে শুরু করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন

    শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো আজও বনেদি বাড়ির ঐতিহ্য বহন করে: ঠাকুরদালানে পুজো হয়, সিংহের মুখ ঘোড়ার মতো — ‘ঘোটকমুখী সিংহ’ — এবং বিসর্জনের জন্য প্রতিমা নৌকায় করে হুগলি নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্র্যাভেল অ্যান্ড লেজার এশিয়া

    বারোয়ারির জন্ম: গুপ্তিপাড়ার বারো বন্ধু, ১৭৯০

    ১৭৯০ সালে বারোজন বন্ধু মিলে চাঁদা তুলে সর্বসাধারণের জন্য দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন — ‘বারো’ ও ‘ইয়ার’ মিলেই ‘বারোয়ারি’ শব্দের জন্ম। একটি সতর্কতা জরুরি: প্রথম বারোয়ারি পুজোর সাল নিয়ে সূত্রে ভিন্নমত আছে — কোনও কোনও সূত্রে ১৭৬১ সালের কথাও বলা হয়। তবে ১৭৯০ সালই সর্বাধিক প্রচলিত তারিখ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত পিটিআই প্রতিবেদন

    কলকাতায় সার্বজনীন পুজোর আগমন: ১৯১০

    ১৯১০ সালে ভবানীপুরের সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা বলরাম বসু ঘাট রোডে কলকাতার প্রথম সত্যিকারের কমিউনিটি দুর্গাপুজোর আয়োজন করে। কলকাতা দুর্গোৎসব

    পাড়ার পুজো থেকে থিম-পুজো: বিংশ শতকের রূপান্তর

    স্বাধীনতার পর সার্বজনীন পুজোই দুর্গাপুজোর প্রধান রূপ হয়ে দাঁড়ায়। আশির দশক থেকে প্যান্ডেল-শিল্পে থিমের যুগ শুরু হয়। এই উৎসবকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি মরসুমি অর্থনীতিও — প্রতিমা নির্মাতা, প্যান্ডেল-শ্রমিক, ঢাকি থেকে ফুচকা-বিক্রেতা — হাজারো পরিবারের রুটি-রুজি জড়িয়ে আছে এই পাঁচ দিনের সঙ্গে।

    ২০২১: ইউনেস্কোর বিশ্বস্বীকৃতি

    ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর আন্তঃসরকারি কমিটির ১৬তম অধিবেশনে “কলকাতার দুর্গাপুজো” মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ইউনেস্কোর অফিসিয়াল পাতা দ্য ইকোনমিক টাইমস

    চার শতক পরেও: ঐতিহ্য আর উৎসবের মেলবন্ধন

    ১৬০৬ সালের লোককথা থেকে ১৭৫৭-র রাজবাড়ি, ১৭৯০-এর বারোয়ারি থেকে ১৯১০-এর সার্বজনীন, আর সেখান থেকে ২০২১-এর ইউনেস্কো স্বীকৃতি — দুর্গাপুজোর ইতিহাস আসলে ক্ষমতা থেকে জনতার হাতে উৎসবের হস্তান্তরের ইতিহাস।

    এই ইতিহাসের জীবন্ত রূপ দেখতে চাইলে ঘুরে আসুন কলকাতার বিখ্যাত পুজোগুলি: ২০২৬ সালের প্যান্ডেল হপিং গাইড।

  • ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত বনাম ব্রাজিল, কিউআর টিকিট ও নম্বরযুক্ত আসনের ঘোষণা

    ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত বনাম ব্রাজিল, কিউআর টিকিট ও নম্বরযুক্ত আসনের ঘোষণা

    কলকাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর

    ভারত বনাম ব্রাজিল — ৩ অক্টোবর সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ভারতীয় পুরুষ ফুটবল দল। ৬ অক্টোবর একই মাঠে দু’বারের বিশ্বজয়ী উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। ইতিহাস গড়তে চলেছে কলকাতা।

    কবে, কোথায়, কারা

    রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের দল নিয়েই আসছে ব্রাজিল। তাঁর ভাষায়, “ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। বিশ্বের সেরা পাঁচ দলের একটি, যারা পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতেছে, তারা তাদের বিশ্বকাপের দল নিয়ে আসছে।”

    টিকিট ও স্টেডিয়ামে নতুন ব্যবস্থা

    এই হাই-প্রোফাইল ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। আসছে:

    • কিউআর-কোড টিকিটিং
    • নম্বরযুক্ত আসন
    • ডিজিটাল স্ক্রিন

    মহিলা দলের ম্যাচও

    শুধু পুরুষদের ম্যাচই নয় — ৮ ও ১১ অক্টোবর একই মাঠে ভারতের মহিলা দল খেলবে রাশিয়ার মহিলা দলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

    গত বছর সল্টলেকেই লিওনেল মেসির সফর ঘিরে বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন খান। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের দুর্নীতির প্রতি “শূন্য সহনশীলতা” রয়েছে।

    আরও পড়ুন (কলকাতা): ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

    সূত্র: এএনআই