বাগদাদ থেকে সেনা প্রত্যাহার: পশ্চিম এশিয়ায় শক্তির নতুন সমীকরণ

বাগদাদের ক্যাম্প ভিক্টরিতে মার্কিন সেনাদের অনুষ্ঠান, ২০০৮

Written by

in

বুধবার, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন সেনাবাহিনী বাগদাদের শেষ ঘাঁটি ক্যাম্প ভিক্টরি থেকে পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন করল। এই প্রত্যাহার ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে সম্মত হয়েছিল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করল। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ঘাঁটি ছাড়া নয়, পশ্চিম এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যের পুনর্নির্ধারণ।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বিশ্লেষণ: ২০০৩ থেকে ২০২৬-এর ইতিহাস

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ২০১১ সালের শেষে মার্কিন সেনারা ইরাক ছেড়ে যায়। কিন্তু ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী ফিরে আসে। রয়টার্স

এই দুই দশকের যুদ্ধে ৪,৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এ বছর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিহত ১৮ জন মার্কিন সার্ভিস সদস্যের মধ্যে সাতজনই ছিলেন ইরাকে।

বছরঘটনা
২০০৩সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আক্রমণ
২০১১প্রথম দফায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
২০১৪–২০১৭আইএস-বিরোধী যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাবর্তন
২০২৪চূড়ান্ত প্রত্যাহার চুক্তি, বাইডেন প্রশাসনের আমলে
২০২৬৩০ সেপ্টেম্বর: বাগদাদের শেষ ঘাঁটি থেকে পূর্ণ প্রত্যাহার

আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে ইরানের সুবিধা

প্রত্যাহারকে বিজয় হিসেবে উদযাপন করেছে তেহরান ও তার মিত্ররা। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস সেনা প্রত্যাহারের প্রাক্কালে মার্কিন ভোটারদের প্রতি ২৬ পৃষ্ঠার এক খোলা চিঠিতে কংগ্রেস থেকে ট্রাম্পের মিত্রদের ভোটে বিতাড়িত করার আহ্বান জানায়। রয়টার্স

ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে — ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন, যা ইতিমধ্যে সাত মাস পেরিয়েছে। সাদ্দামের পতনের পর থেকেই ইরান ইরাকে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।

নিরাপত্তা শূন্যতার আশঙ্কা: ইরাকি বাহিনী কতটা প্রস্তুত

২০১১ সালের প্রত্যাহারের পর ঠিক এমনই একটি শূন্যতার মধ্যে ইসলামিক স্টেট মাথা তুলেছিল। এখনো ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমি ও পাহাড়ি এলাকায় আইএসের পুনরুত্থানের খবর আসে। দুই দশক পর বাগদাদ ছাড়ল মার্কিন সেনা, শেষ হলো ইরাকে দীর্ঘ উপস্থিতি

কাতারের মধ্যস্থতা ও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম-এশিয়া নীতি

জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারকে সহায়ক ভূমিকা রেখে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি এনেছিল দোহা। এবারও মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সোমবার কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা পক্ষগুলোর মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছি।” রয়টার্স

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব ভাসিয়েছিল — যাতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সাত দিনের কাউন্টডাউন ও যুদ্ধবিরতি থাকার কথা ছিল। ট্রাম্প শনিবার তা প্রত্যাখ্যান করেন।

শেষ বিচারে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রত্যাহার পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নীতির একটি বড় মোড়। ইরাক এখন পরীক্ষার মুখে — তারা কি নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে পারবে?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *