পরমাণু বিদ্যুতে বেসরকারি পুঁজি: ভারতের জ্বালানি ভবিষ্যৎ কোন পথে

কুডানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট

Written by

in

ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ খাতে এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। ষাট বছরের রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া শেষ করে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম আলোচনায় বসেছে আদানি গ্রুপ, রিলায়েন্স, জিন্দাল ও এনটিপিসির সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে — পরমাণু বিদ্যুৎ ভারত ভবিষ্যৎ কোন পথে নেবে?

পরমাণু বিদ্যুৎ ভারত ভবিষ্যৎ: ২০৪৭-এর ১০০ গিগাওয়াট লক্ষ্য

ভারতের বর্তমান পরমাণু বিদ্যুৎ সক্ষমতা মাত্র ৮.৭৮ গিগাওয়াট — চালু আছে ২৪টি রিঅ্যাক্টর। এই ক্ষমতাকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াটে নেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে, “নিউক্লিয়ার এনার্জি মিশন”-এর অধীনে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো

এই লক্ষ্যের পেছনে দুটি বড় চালক রয়েছে। প্রথমত, “বিকশিত ভারত ২০৪৭” লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত, ২০৭০ সালের মধ্যে নেট জিরো নির্গমন অর্জনের প্রতিশ্রুতি।

কেন এখন বেসরকারি পুঁজি ডাকা হলো

১৯৬২ সালের পারমাণবিক শক্তি আইন থেকে ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ ছিল রাষ্ট্রের একচেটিয়া সম্পদ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংসদে পাস হওয়া “শান্তি” আইন সেই একচেটিয়া ভেঙেছে। এই আইনে বেসরকারি কোম্পানি প্রথমবার পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনা করতে পারবে। রয়টার্স

রোসাটম-সংলাপ ও প্রযুক্তির প্রশ্ন

রোসাটমের করপোরেট উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রথম উপ-মহাপরিচালক কিরিল কোমারভ দ্য হিন্দু বিজনেসলাইনকে বলেছেন, “আদানি গ্রুপ, রিলায়েন্স, জিন্দালের মতো আপনাদের বিখ্যাত সব নামের বেসরকারি কোম্পানি এবং রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এনটিপিসি — সবার সঙ্গেই আমাদের আলোচনা চলছে।” দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন ভারতের পরমাণু-বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে রাশিয়ার রোসাটমের নজর, আদানি-রিলায়েন্স-এনটিপিসির সঙ্গে আলোচনা

রিঅ্যাক্টর ধরন২০৪৭ সালের মধ্যে লক্ষ্য (গিগাওয়াট)
চাপযুক্ত ভারী পানি রিঅ্যাক্টর (দেশীয়)৪৬.৫
চাপযুক্ত পানি রিঅ্যাক্টর (আমদানি/আন্তর্জাতিক)৩৮.৮
দ্রুত প্রজনন রিঅ্যাক্টর৫
ভারত স্মল/মডিউলার রিঅ্যাক্টর১০

অর্থায়ন, দায়বদ্ধতা ও খোলা প্রশ্ন

প্রথম প্রশ্ন অর্থায়নের। ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট সক্ষমতার জন্য প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। দ্বিতীয় প্রশ্ন পারমাণবিক দায়বদ্ধতা আইনের। তৃতীয়ত, জ্বালানি নিরাপত্তা — বছরে প্রায় ৮,০০০ টন প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম লাগবে বলে অনুমান। চতুর্থত, জনসমর্থন ও নিরাপত্তা।

শেষ বিচারে, পরমাণু বিদ্যুৎ ভারত ভবিষ্যৎ এখন একটি বড় বাজির মুখে। রোসাটমের সঙ্গে আদানি-রিলায়েন্স-জিন্দাল-এনটিপিসির আলোচনা এই যাত্রার শুরু মাত্র; গন্তব্য এখনো অনেক দূর।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *