ভারতে এল অ্যাপল পে: শুরুতেই শুধু অ্যাক্সিস ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, UPI নয়

অ্যাপল পে পেমেন্ট চিহ্ন

Written by

in

বহু বছরের জল্পনার অবসান। ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো অ্যাপলের পেমেন্ট সেবা অ্যাপল পে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের আইফোন, আইপ্যাড ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীরা এই সেবা ব্যবহার করতে পারছেন। প্রথম ব্যাংকিং পার্টনার হিসেবে অ্যাপলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে অ্যাক্সিস ব্যাংক। তবে শুরুটা সীমিত — সবাই এখনই এই সুবিধা পাবেন না।

কারা ব্যবহার করতে পারবেন

আপাতত শুধু অ্যাক্সিস ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ড নেটওয়ার্কের ক্রেডিট কার্ড অ্যাপল ওয়ালেটে যোগ করা যাবে। দেশীয় RuPay নেটওয়ার্কের কার্ড, ডেবিট কার্ড কিংবা অন্য কোনো ব্যাংকের কার্ড এখনই চলবে না। এমনকি অ্যাক্সিস ব্যাংকেরই RuPay ক্রেডিট কার্ড থাকলেও তা যোগ করা যাবে না।

রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট শেষে অ্যাক্সিস ব্যাংকের হাতে ছিল ১.৬৩ কোটি ক্রেডিট কার্ড — দেশের মোট ১২.৪ কোটি কার্ডের প্রায় ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ, তাত্ত্বিকভাবে দেশের প্রতি আটটি ক্রেডিট কার্ডের একটিতে অ্যাপল পে পৌঁছেছে, যদিও RuPay কার্ড বাদ দিলে প্রকৃত সংখ্যা আরও কম।

কীভাবে কাজ করবে

যোগ্য গ্রাহকরা অ্যাক্সিস ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ বা সরাসরি অ্যাপল ওয়ালেট থেকে কার্ড যোগ করতে পারবেন। এরপর দোকানের NFC টার্মিনালে, বিভিন্ন অ্যাপে ও ওয়েবসাইটে পেমেন্ট করা যাবে — কার্ডের পিন বা ওটিপি দেওয়ার দরকার নেই। লেনদেন অনুমোদিত হবে ফেস আইডি, টাচ আইডি বা ডিভাইস পাসকোডে।

নিরাপত্তার দিকটিই অ্যাপলের বড় বাজি। লেনদেনের সময় ডিভাইস বা অ্যাপলের সার্ভারে আসল কার্ড নম্বর সংরক্ষিত হয় না; বদলে ডিভাইসে একটি অনন্য “ডিভাইস অ্যাকাউন্ট নম্বর” তৈরি করে তা এনক্রিপ্ট করে রাখা হয়। দোকানদার পান টোকেনাইজড তথ্য, আসল কার্ডের বিবরণ নয়। অ্যাপলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনিফার বেইলি বলেন, এটি দৈনন্দিন কার্ড পেমেন্টের “সহজ, নিরাপদ ও ব্যক্তিগত” উপায়।

কোথায় কোথায় চলবে

অ্যাপলের দাবি, দেশের “লক্ষ লক্ষ” দোকানদার এই সেবা নেবেন। শুরুর তালিকায় আছে ব্লিঙ্কিট, ক্রোমা, জোমাটো, টাটা ১এমজি, ইক্সিগো ও রিলায়েন্সের ব্র্যান্ডগুলো। পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে যুক্ত হয়েছে রেজরপে, পেটিএম, পাইন ল্যাবস, পেযু, ক্যাশফ্রি, জাসপে, এমসোয়াইপ ও ওয়ার্ল্ডলাইন। তবে কোনো নির্দিষ্ট দোকানে চলবে কি না, তা নির্ভর করবে সেই টার্মিনাল অ্যাপল পে-র জন্য সক্রিয় করা হয়েছে কি না তার ওপর — ফলে শুরুতে কোথাও কোথাও অসামঞ্জস্য দেখা যেতে পারে।

UPI-র রাজত্বে অ্যাপলের লড়াই

ভারতের ডিজিটাল পেমেন্টের ৮৪ শতাংশই UPI-র দখলে — IMF-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী লেনদেনের পরিমাণে এটিই বিশ্বের বৃহত্তম খুচরো ফাস্ট-পেমেন্ট ব্যবস্থা। কিন্তু UPI সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে, আর অ্যাপল পে কার্ড-ভিত্তিক — ফলে দুটোর প্রতিযোগিতা সরাসরি নয়।

বড় বাধা বাণিজ্যিক শর্ত। সূত্রের খবর, লেনদেনে প্রায় ২০ বেসিস পয়েন্ট (০.২%) ফি চাইছে অ্যাপল, যেখানে পেমেন্ট স্তরে মার্জিনই ৪০-৫০ বেসিস পয়েন্ট। এই শর্তেই আটকে আছে HDFC ব্যাংক, ICICI ব্যাংক ও SBI কার্ড — তিনটি মিলিয়ে দেশের ক্রেডিট কার্ড খরচের প্রায় ৬৪ শতাংশ। ফলে অ্যাপল পে-র ভারত-জয় সহজ হবে না, অন্তত শুরুতে।

আরও পড়ুন

ভারতে ৫জির তিন বছর: কী বদলালো, কী এখনও বাকি

সূত্র

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *